পেকুয়া প্রতিনিধি;
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে বড় ধরনের ব্যবধান দেখা গেছে। এসএসসি পরীক্ষায় উপজেলার ১ হাজার ৩৩৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬৫০ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। এতে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৪৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫৯ জন।
অন্যদিকে, দাখিল পরীক্ষায় ৪৭২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩৩৪ জন পাস করেছে। এ পরীক্ষায় পাসের হার ৭০ দশমিক ৭৬ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ জন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
এসএসসির ফলাফলে পেকুয়া সরকারি মডেল জিএমসি ইনস্টিটিউশন তুলনামূলক ভালো করেছে। প্রতিষ্ঠানটির ৩০১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৮০ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৫৯ দশমিক ৮০ শতাংশ। এ প্রতিষ্ঠান থেকে সর্বোচ্চ ৩১ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।
শিলখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৭৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১০৩ জন পাস করেছে। পাসের হার ৫৭ দশমিক ৫৪ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫ জন।
পেকুয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ১২৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৭০ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৫৬ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ১২ জন।
টইটং ইকরাম স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৩৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৪ জন পাস করেছে। পাসের হার ৬৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন।
মেহেরনামা উচ্চ বিদ্যালয়ে ১০৮ জনের মধ্যে ৫৭ জন, টইটং উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬১ জনের মধ্যে ৩১ জন, বারবাকিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫৭ জনের মধ্যে ২৬ জন এবং হোসনে আরা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৩৬ জনের মধ্যে ১৪ জন উত্তীর্ণ হয়েছে।
এ ছাড়া মগনামা উচ্চ বিদ্যালয়ে ১০৮ জনের মধ্যে ৩৯ জন, রাজাখালী এয়ার আলী খান আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৬০ জনের মধ্যে ৫৩ জন, উজানটিয়া খান বাহাদুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬০ জনের মধ্যে ১৯ জন এবং রাজাখালী ফৈজুন্নেছা স্কুল অ্যান্ড কলেজে ১০৮ জনের মধ্যে ৩৪ জন পরীক্ষার্থী পাস করেছে।
দাখিল পরীক্ষায় পেকুয়ার মাদ্রাসাগুলো তুলনামূলক ভালো ফল করেছে। উপজেলার ১০টি মাদ্রাসার ৪৭২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩৩৪ জন পাস করেছে। পাসের হার ৭০ দশমিক ৭৬ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ জন।
দাখিল পরীক্ষায় সর্বোচ্চ পাসের হার অর্জন করেছে রাজাখালী বি. ইউ. আই. কামিল মাদ্রাসা। প্রতিষ্ঠানটির ৬৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬১ জন পাস করেছে। পাসের হার ৯১ দশমিক ০৪ শতাংশ। এ প্রতিষ্ঠান থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ জন।
ফাঁসিয়াখালী ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসায় ৩৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩১ জন পাস করেছে। পাসের হার ৮১ দশমিক ৫৮ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন।
পেকুয়া আদর্শ বালিকা মাদ্রাসায় ২৯ জনের মধ্যে ২৪ জন পাস করেছে। পাসের হার ৮২ দশমিক ৭৫ শতাংশ।
মেহেরনামা আলমাছিয়া মাদ্রাসায় ৩১ জনের মধ্যে ২৩ জন, বটতলি শফিকিয়া মাদ্রাসায় ৫২ জনের মধ্যে ৩৮ জন, পেকুয়া আনোয়ারুল উলুম মাদ্রাসায় ৭৭ জনের মধ্যে ৫৬ জন, মগনামা মাঝিরপাড়া এস আর আলিম মাদ্রাসায় ৫৮ জনের মধ্যে ৩৯ জন, রাজাখালী সুন্দরীপাড়া আজগরিয়া মাদ্রাসায় ১৯ জনের মধ্যে ১১ জন, মৈশালী বাজার ফারুকিয়া মাদ্রাসায় ৬১ জনের মধ্যে ৩২ জন এবং উজানটিয়া এস আলিম মাদ্রাসায় ৪০ জনের মধ্যে ১৯ জন উত্তীর্ণ হয়েছে।
ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, দাখিলে পেকুয়ার সর্বোচ্চ পাসের হার রাজাখালী বি. ইউ. আই. কামিল মাদ্রাসায়—৯১ দশমিক ০৪ শতাংশ। আর সর্বনিম্ন পাসের হার উজানটিয়া এস আলিম মাদ্রাসায়—৪৭ দশমিক ৫০ শতাংশ।
সামগ্রিকভাবে, পেকুয়ায় এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ৪৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ হলেও দাখিলে পাসের হার ৭০ দশমিক ৭৬ শতাংশ। অর্থাৎ সাধারণ শিক্ষার তুলনায় মাদ্রাসা শিক্ষায় পাসের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এসএসসিতে ৫৯ জন এবং দাখিলে ৯ জনসহ উপজেলায় মোট ৬৮ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।
ফলাফলের এই পার্থক্য উপজেলার মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার মান, শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি এবং প্রতিষ্ঠানভিত্তিক শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে নতুন করে পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তাও সামনে এনেছে।
